লালমনিরহাটে নিখোঁজের তিন বছর পর শাজাহান নামে এক অটোচালককে জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ। খুন সন্দেহে ঘটনার পর তার বাড়ি থেকে রক্তমাখা জামা-লুঙ্গি উদ্ধারও করা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার দুপুরে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লালমনিরহাট সদর থানার ওসি শাহা আলম।

জীবিত ফিরে আসা শাজাহান আলী ওরফে নাহিদ কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের ঈশ্বরকুল এলাকার হবিবর রহমানের ছেলে।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সদর উপজেলার হাড়িভাঙ্গা এলাকার শ্বশুরবাড়িতে রাতের খাবার খাওয়ার পর নিখোঁজ হন শাজাহান আলী ওরফে নাহিদ। অনেক খোঁজাখুঁজির পর স্বামীকে না পেয়ে ঐ বছরের ৮ এপ্রিল থানায় একটি জিডি করেন স্ত্রী মতিয়া বেগম। ঘটনার কয়েকদিন পর বাড়ির পাশ থেকে নাহিদের রক্তমাখা লুঙ্গি ও জামা উদ্ধার করা হয়। সেগুলো শনাক্ত করেন মতিয়া বেগম। এরপর থেকেই জমির বিরোধে শাজাহানকে হত্যা ও লাশ গুম করা হয়েছে বলে গুঞ্জন ছড়ায়।

দীর্ঘ তিন বছর পর লালমনিরহাট জেলার প্রাণকেন্দ্র মিশনমোড় থেকে সেই অটোচালক শাজাহান আলী ওরফে নাহিদকে জীবিত উদ্ধার করে সদর থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম। এ ঘটনায় জেলাজুড়ে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সবার মনেই প্রশ্ন- এতদিন কোথায় ছিলেন নাহিদ? রক্তমাখা লুঙ্গি-জামা কারা ফেলে রেখেছিল?

পুলিশ জানায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে তিন বছর আগে স্বেচ্ছায় আত্মগোপন করেন শাজাহান আলী ওরফে নাহিদ। বুধবার রাতে মিশনমোড় চত্বর থেকে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সদর থানার ওসি শাহা আলম বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে অটোচালক শাজাহান আলী ওরফে নাহিদকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আরো কেউ জড়িত কিনা- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *